তিন মাস আটকে রেখে ধর্ষণ মাদরাসা শিক্ষক!

তিন মাস আটকে রেখে ধর্ষণ মাদরাসা শিক্ষক | BD Newspaper Today

তিন মাস আটকে রেখে ধর্ষণ মাদরাসা শিক্ষক!

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে গাজীপুরে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে গোপন কক্ষে আটকে রেখে তিন মাস ধরে ধর্ষণের অভিযোগে এক মাদরাসা শিক্ষককে উপর, তাকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১। গাজীপুর মহানগরে এক কলেজছাত্রীকে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে রাতে গাজীপুরের শ্রীপুর ও ময়মনসিংহ থেকে অভিযুক্ত তিনজনের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তবে এদিকে শেরপুরের নকলা থানার এক উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে এক নারীকে প্রতারণামূলক বিয়ে করে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে গত সোমবার মাদরাসাছাত্রী ও গাইবান্ধার ফুলছড়িতে গৃহবধূকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৬ অক্টোবর ঢাকায় এনে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে গত ৯ জুলাই গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও ধর্ষণের ভিডিওচিত্র ইন্টারনেটে ছাড়ার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবির অভিযোগে অভিযুক্ত দুজনকেই আটক করেছে র‌্যাব-১১ (সিপিসি-২) কুমিল্লা। ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। বিস্তারিত আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে :

গাজীপুরে গত বুধবার বিকেলে গ্রেপ্তার হওয়া মো: আসাদুজ্জামান (৩৫) খুলনার কসবা উপজেলার উত্তর বেতকাশি গ্রামের মোবারক আলীর ছেলে। তিনি সপরিবারে গাজীপুরের শ্রীপুরের ধলাদিয়া এলাকার রাজ্জাক মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থেকে ধলাদিয়া মহিলা মাদরাসায় শিক্ষকতা করেন। দুই সন্তানের বাবা আসাদুজ্জামানের দেওয়া তথ্যে বুধবারই ধলাদিয়ার একটি তালাবদ্ধ ঘর থেকে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবা থানায় মামলা করেছেন। র‌্যাব-১-এর গাজীপুর ক্যাম্পের কমান্ডার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, ছাত্রীটির পরিবার হতদরিদ্র। কম খরচে থাকা-খাওয়াসহ মাদরাসায় ভর্তির সুযোগ করে দেওয়ার কথা বলে গাজীপুর মহানগরের ভাড়া বাসা থেকে ছাত্রীটিকে ধলাদিয়ায় নিয়ে যান আসাদুজ্জামান। পরে তিনি ছাত্রীটিকে মাদরাসায় ভর্তি না করে এলাকার একটি নির্জন বাড়ির ঘরে বন্দি রেখে হত্যার ভয় দেখিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণ এবং ভিডিও ধারণ করেন। ছাত্রীর বাবা মোবাইল ফোনে খোঁজখবর জানতে চাইলে মেয়ে ‘ভালো আছে লেখাপড়া নিয়ে অনেক ব্যস্ত বলে জানাতেন আসাদ। এভাবে প্রায় তিন মাস চললে বাবার মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। কয়েক দিন আগে মাদরাসায় গিয়ে বাবা জানতে পারেন মেয়ে সেখানে নেই। এরপর তিনি র‌্যাব-১-এর কার্যালয়ে অভিযোগ করেন।

তবে গাজীপুর মহানগরের শিমুলতলী এলাকায় ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন শ্রীপুর উপজেলার জৈনাবাজার এলাকার আবুল কালামের ছেলে রানা (২৫) এবং ময়মনসিংহের গৌরীপুর থানা এলাকার আনন্দ (২২)। তাঁরা গাজীপুরের চতরবাজার এলাকায় থাকতেন। পেশায় গাড়িচালক। ধর্ষণে আরেক অভিযুক্ত ছাত্রীর সহপাঠী চতরবাজারের নয়ন মিয়ার ছেলে নাঈম (১৯) পলাতক। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা গাজীপুর মহানগরের সদর থানায় মামলা করেছেন।

পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতিত ছাত্রীর (১৮) বাড়ি জামালপুরে। পরিবারের সঙ্গে তিনি জেলা শহরে থেকে কলেজে পড়েন। বৃহস্পতিবার বিকেলে সহপাঠী নাঈম তাঁকে মোবাইল ফোনে চতরবাজার বটতলা যেতে বলেন। তিনি সেখানে গিয়ে নাঈম, আনন্দ ও রানাকে দেখতে পান। কিছুক্ষণ পরে আনন্দ ও রানা সেখান থেকে চলে যান। নাঈম অটোরিকশায় শিমুলতলীর একটি বাসার দিকে যেতে থাকলে ছাত্রী আপত্তি করেন। একপর্যায়ে নাঈম তাঁকে জোর করে একটি নির্জন ঘরে নিয়ে যান। সেখানে আনন্দ, রানা ও নাঈম তাঁকে হত্যার ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করেন।

এদিকে শেরপুরে অভিযুক্ত এসআই মো: সবুর উদ্দিনের বিরুদ্ধে গত বৃহস্পতিবার শেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেন জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার এক নারী (২২)। ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নিতে পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) জামালপুরকে আদেশ দিয়েছেন। নকলা থানার ওসি আলমগীর হোসেন শাহ জানান, মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সুপারের নির্দেশে এসআই সবুর উদ্দিনকে প্রত্যাহার করে শেরপুর পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। সবুর নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার শ্যামগঞ্জ উত্তর বাজার এলাকার আব্দুল হাইয়ের ছেলে।

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো: বিল্লাল হোসেন বলেন। তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত এসআইয়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে সোমবার রাতে এক মাদরাসাছাত্রীকে ছদ্মনামে প্রেমে ফাঁসিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন নজরুল (২৫) নামের এক যুবক। পরে তাঁর বড় ভাই বাদল (৩৭) ও বাদলের সঙ্গী মুছা (২৪) বিচারের আশ্বাস দিয়ে মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন। এই অভিযোগে আড়াইহাজার থানার পুলিশ অভিযুক্ত তিনজনকেই গ্রেপ্তার করেছে। উপজেলার ব্রাহ্মন্দী মধ্যপাড়ার মোতালিবের ছেলে নজরুল ও বাদল।

তবে ফরিদগঞ্জের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন উপজেলার ভাটিরগাঁও গ্রামের হারুন খানের ছেলে জহিরুল ইসলাম নুরু (৩০) ও আবুল কালামের ছেলে আব্দুর রহমান রাজীব (২৮)। গত বুধবার র‌্যাবের কাছে অভিযোগ দিয়েছিলেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ। গতকাল তিনি ফরিদগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন এবং পর্নগ্রাফি আইনে মামলা করেন। আসামিদের থানায় হস্তান্তর করেছে র‌্যাব।

এবং ময়মনসিংহের ভালুকার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের ঘটনায় নির্যাতিত ছাত্রীর বাবা বৃহস্পতিবার রাতে থানায় একটি মামলা করেছেন। তবে মামলায় কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের বীরহাজীপুর গ্রামের আতিক উল্যার ছেলে আজিজুল হককে আসামি করা হয়েছে। তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

Tags: তিন মাস আটকে রেখে ধর্ষণ মাদরাসা শিক্ষক! bd news, তিন মাস আটকে রেখে ধর্ষণ মাদরাসা শিক্ষক! bd newspaper, তিন মাস আটকে রেখে ধর্ষণ মাদরাসা শিক্ষক! bd news 24 bangla, তিন মাস আটকে রেখে ধর্ষণ মাদরাসা শিক্ষক! bd newspaper all, তিন মাস আটকে রেখে ধর্ষণ মাদরাসা শিক্ষক! bangla newspaper, তিন মাস আটকে রেখে ধর্ষণ মাদরাসা শিক্ষক! bd news 24, তিন মাস আটকে রেখে ধর্ষণ মাদরাসা শিক্ষক! newspaper, তিন মাস আটকে রেখে ধর্ষণ মাদরাসা শিক্ষক! news today, তিন মাস আটকে রেখে ধর্ষণ মাদরাসা শিক্ষক! bangladeshi newspaper.

Leave a reply